নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : শনিবার ১৮ই এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে তীব্র হয়ে উঠেছে বিদ্যুৎ সংকট। জ্বালানি ঘাটতির কারণে একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় নগরজুড়ে বেড়েছে লোডশেডিং, যার প্রভাবে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে, পাশাপাশি তৈরি হয়েছে পানির সংকটও।
পিডিবি ও চট্টগ্রাম সিস্টেম কন্ট্রোল (স্কাডা) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২১১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট। ওই সময়ে উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। তবে উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় স্থানীয়ভাবে ঘাটতি তৈরি হয় এবং প্রায় ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়।
এর আগে বেলা ১১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট। সে সময় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৯০ দশমিক ৯০ মেগাওয়াট।
স্কাডার তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো এনলিমা, জুডিয়াক, জুলধা-২ ও ৩, রাউজান ১ ও ২ এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট। বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকেও সকালে কিছু উৎপাদন হলেও সন্ধ্যার দিকে তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র দুটি।
বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেকটাই নির্ভর করছে বাঁশখালী ও শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর। সন্ধ্যা ৭টার হিসাবে বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ৬১২ মেগাওয়াট এবং শিকলবাহা থেকে ২১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। এছাড়া মিরসরাইয়ের বি-আর পাওয়ার কেন্দ্র থেকেও কিছু বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছে।
এদিকে নগরের চকবাজার, বহদ্দারহাট, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, হালিশহর ও বন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে কয়েক দফা করে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনেক এলাকায় দিনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। কখনো বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরতে সময় লাগছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে পানির সরবরাহেও। বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়াসার পাম্পগুলো ঠিকভাবে পানি তুলতে পারছে না, ফলে অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে পানির সংকট। এতে নগরবাসী দ্বিমুখী সমস্যার মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বাসায় থাকা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কর্মজীবী মানুষদেরও দিনের কাজ শেষে বিশ্রাম নিতে সমস্যা হচ্ছে, যা তাদের কর্মক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলছে।
পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া এবং জ্বালানি সংকটের কারণেই কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী লোডশেডিংয়ের মাত্রা ওঠানামা করছে।
এদিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।