নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : বুধবার ২৯শে অক্টোবর ২০২৫, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস (বিআরআইসিএম)-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মালা খানকে ঘিরে জালিয়াতি, ঘুষ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগে তোলপাড় চলছে। তিনি অবৈধ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নেওয়া, গবেষণাপত্র চুরি করা এবং যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও পদে বহাল থাকার অভিযোগে তদন্তের মুখে রয়েছেন।
সরকারি ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মালা খান দাবি করেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আমেরিকান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট অর্জন করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বরের চিঠিতে জানায়, এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে অনুমোদিত নয় এবং মালা খানের ডিগ্রি অবৈধ। একই সিদ্ধান্ত জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও (১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫)।
তদন্তে দেখা গেছে, তাঁর পিএইচডি থিসিস আসলে ১৯৯৮–৯৯ সালের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একটি গবেষণাপত্রের হুবহু অনুলিপি। এছাড়া ক্রোয়েশিয়ার Metrology HZ Chemistry Grant Report থেকেও সরাসরি নকলের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আরও জানা যায়, মালা খানের পিএইচডি সুপারভাইজর ছিলেন তাঁর স্বামী কেএম মোস্তফা আনোয়ার, যিনি নিজেই রসায়নে কোনো স্বীকৃত ডিগ্রিধারী নন।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, পিএইচডি জালিয়াতি মামলায় রেহাই পেতে তিনি তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুব আলমকে ৭ কোটি টাকা ঘুষ দেন। নিজের ডায়েরিতেই এই অর্থ লেনদেনের উল্লেখ করেছেন তিনি, এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বীকারও করেছেন যে, “হ্যাঁ, হাতের লেখাটা আমার।”
যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ২০২২ সালে তাঁকে বিআরআইসিএম-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এ পদে ১৪ বছরের গবেষণা অভিজ্ঞতা আবশ্যক থাকলেও তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র ৮ বছর ৭ মাস।
বিআরআইসিএম-এর ১৩তম পরিচালনা পর্ষদ ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে ১৫তম সভায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তবে সরকারি একটি অংশ, বিশেষ করে তৎকালীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী এফ.এস. ওসমান-এর প্রভাবের কারণে মালা খান এখনও পদে বহাল আছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সম্পর্কে মালা খান বলেন,
“আমার সম্পর্কে যা বলা হচ্ছে, সব মিথ্যা। কিছু গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে টার্গেট করছে।”
তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিচারাধীন অবস্থায় সরকার, ইউজিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
মালা খানের বিরুদ্ধে ভুয়া ডিগ্রি, ঘুষ ও প্রভাব খাটিয়ে পদে বহাল থাকার অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হবে কিনা—এখন সেটাই সময়ের অপেক্ষা।